শনিবার

১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছরেও কাটেনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-সংকট

ইবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৫

আপডেট: ১ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৮

শেয়ার

প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছরেও কাটেনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-সংকট
ছবি বাংলা এডিশন

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৬ বছর পার হলেও এর নাম নিয়ে বিভ্রান্তি, বিতর্ক ও ভোগান্তির অবসান হয়নি। বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক নথি, স্থাপনা এবং অফিসিয়াল কাগজপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহৃত হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

জানা গেছে, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা ও দুলালপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও নামের মিল নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে উদ্বোধন করা ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা রয়েছে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়’, আর প্রধান ফটকে লেখা ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বলা হয়েছে, এই আইনের বিধান অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে, যাহা ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে অভিহিত হইবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অফিসিয়াল নথি ও সংশ্লিষ্ট স্থানে বর্তমানে যেসব নাম ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ’, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ’, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া’, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-৭০০৩, বাংলাদেশ’ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, কুষ্টিয়া-৭০০৩’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের এই ভিন্নতাকে অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি কারণ হয়ে উঠেছে এই নামের অসঙ্গতি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি কুষ্টিয়া জেলায় হবে নাকি ঝিনাইদহ জেলায় হবে, এ নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিতর্ক রয়েছে। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই দুই জেলার স্থানীয় হওয়ায় বিভিন্ন নথিতে নিজেদের জেলার নামকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুই জেলার প্রভাবশালী মহলও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে নিজ নিজ জেলার নাম যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৪ এপ্রিল ‘কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই’ শীর্ষক এক উন্নয়ন সংলাপে তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া’ প্রস্তাবের দাবিকে সমর্থন করব।” তাঁর এ বক্তব্যের পর নতুন করে নাম বিতর্ক সামনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ করা একাধিক চাকরিপ্রার্থীর দাবি, বিভিন্ন চাকরির আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নাম থাকায় আবেদনপত্র পূরণের সময় তারা বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির শিকার হন।

নাম-সংকটের সমাধানের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে তারা আলাদা আলাদা নাম ব্যবহার করেছে। এটার সমাধান হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল নাম ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। নাম দিয়েছেন ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ বা ‘ঝিনাইদহ বিশ্ববিদ্যালয়’ নয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে আছে এবং এটিই অফিসিয়াল নাম। ক্যাম্পাস একই সঙ্গে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে হওয়ায় কোনোটি অমূলক নয়। প্রশাসনিক সংকট এড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বিভ্রান্তিমূলক নয়, বরং অধিকাংশ সময় মানুষের সুবিধার্থে বা অবস্থান বোঝানোর জন্য এসব নাম ব্যবহৃত হয়েছে।



banner close
banner close