বৃহস্পতিবার

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ২২:২১

শেয়ার

রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ জুলাই সংঘটিত সহিংসতায় মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর একটি আদালতে তিনি এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৭ থেকে ১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন, রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত আর সালেহ এবং নুরুল ইসলাম শহীদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অভিযুক্তরা ছুরি, লোহার রড, বেল্ট ও বাঁশের লাঠি নিয়ে মাহমুদুলকে ধাওয়া করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ও বাইরে ঘিরে ফেলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। সালমান সাব্বিরও তার মাথায় আঘাত করেন। এতে মাহমুদুলের বাম চোখে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চারজন আসামি মাহমুদুলকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।

এতে আরও বলা হয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা মাহমুদুলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করেন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাহমুদুলের বাবা জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পরামর্শ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মাহমুদুলের বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী তার বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হুমকির অভিযোগ আনেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে নিয়ে ওইদিন রাতে একটি সভা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। সেখানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আনাস, একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন।

পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে প্রক্টর আরেকটি সভা ডাকেন। সভায় রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ছবি দেখতে পান। এরপর প্রক্টর দপ্তরে সালাহউদ্দিন আম্মার ও সালমান সাব্বির আনাসকে মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দেওয়া হলে আনাসসহ অন্যরা প্রক্টর দপ্তর ত্যাগ করেন।

এর জেরে বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে প্রবেশ করে আম্মারসহ কয়েকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।

হামলার পর আনাসসহ তার সঙ্গীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা পাঠকক্ষের ফটকে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রবেশ করে তারা ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



banner close
banner close