শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

চিতলমারীর বিদ্যালয়ে অর্থ আত্মসাৎ: তদন্তে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ

সাগর মন্ডল, বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৯:১৪

শেয়ার

চিতলমারীর বিদ্যালয়ে অর্থ আত্মসাৎ: তদন্তে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ
ছবি বাংলা এডিশন

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কালশিরা রাজেন্দ্র স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্মের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর বাংলা এডিশনে ‘এক বছরেও শেষ হয়নি ৪৫ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্ত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে গতি আসে। সর্বশেষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদের অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার অনিয়মের **প্রাথমিক সত্যতা** পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, ২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও চাপের মুখে রয়েছেন।

তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা

অভিযোগ তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সময় লেগেছে প্রায় সাত মাস। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় তদন্ত ঝুলে থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা উঠে আসায় এখন দ্রুত বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযুক্তের বক্তব্য

প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র ব্রহ্ম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চান না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে তিনি ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।

অন্যান্য প্রতিক্রিয়া

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মুঠোফোনে বাংলা এডিশনকে বলেন, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদ জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন তাদের হাতে পৌঁছেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রায় সাত মাসের তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের। তাদের প্রত্যাশা, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।



banner close
banner close