নিজের মেয়ে নাকি শিক্ষার্থীদের ব্রয়লার মুরগি কাকে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী? ভারতের ইন্ধনে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে শিক্ষামন্ত্রীকে: ইলিয়াস হোসাইন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি। শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ; প্রশ্ন উঠছে আন্দোলনের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে।
রাজপথ আজ উত্তাল, অস্থিরতার এক অগ্নিঝড় বয়ে যাচ্ছে চারদিকে। লক্ষহীন এক আন্দোলনের ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলছে প্রতিহিংসার আগুন। ন্যাটস। আন্দোলনের ন্যাটস দিয়ে দিয়েন।
সম্প্রতি, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার কথোপকথন ব্যাপক ভাইরাল হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার সময়, শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
আর, শিক্ষামন্ত্রীর সেই শব্দ ঘিরেই উত্তাল হয়েছে রাজপথ। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ক্ষোভে নেমেছে আন্দোলনে। তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি। ব্লকেড করেছে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ, সংসদ ভবনের সামনের সড়ক, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেটের রাস্তা।
কিন্তু, প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষামন্ত্রীর যেই বক্তব্যের জন্য উত্তাল হয়েছে রাজপথ, সেই কথার অর্থ কি আসলেই ব্যঙ্গাত্মক ছিলো? যার কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে, পরীক্ষার্থীদের নামতে হয়েছে আন্দোলনে? নাকি এই আন্দোলনের আড়ালে রয়েছে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? যেই ষড়যন্ত্রের কালো থাবায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরিণত হয়েছে এক নোংরা রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হিসেবে?
বিষয়টি নিয়ে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদন লেখার সময়, পোস্টটিতে এক লাখের বেশি মানুষের রিয়্যাক্ট জমা পড়েছে এবং আট হাজারেরও বেশি নেটিজেন সেখানে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। মন্তব্যকারীদের একটি বড় অংশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইলিয়াস হোসাইনের দেওয়া বার্তার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে।
পোস্টে তিনি, শিক্ষামন্ত্রী মিলনের মন্তব্যকে একটি কথার কথা বলে উল্লেখ করে লেখেন, তাকে নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীর অশালীন বক্তব্য সীমালঙ্ঘন করছে। আবার অনেক জায়গায় ছাত্র পরিচয়ে বহিরাগতরা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ হয়েছেন, বলেও অভিযোগ করেন ইলিয়াস হোসাইন। শিক্ষামন্ত্রীকে দিয়ে, ভারত সব কাজ করাতে পারছে না বলেই, মাত্রাতিরিক্তভাবে উসকানি চলছে, পোস্টে এমন মন্তব্যও করেন এই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে, সেখানে ভারতের মদদপুষ্ট কাউকে বসানোর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার লেখায়।
ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে, শিক্ষার্থীদের যে কষ্ট হয়েছে সেই বিষয়টিও পোস্টে তুলে ধরেন ইলিয়াস হোসাইন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা না পেছানোর সমালোচনার পাশাপাশি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মতো যে কিছু হয়নি সেটিও উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে, পড়ালেখা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করেন ইলিয়াস হোসাইন।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে বলছে, শিক্ষামন্ত্রীর যে মন্তব্যকে ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই মন্তব্য আসলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছিল না। বরং, মিলন তার মেয়ের উদাহরণ টানতেই, মন্তব্যটি করেছিলেন।
অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। জানা যায়, এই আন্দোলনে বহিরাগতদের ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যারা সুযোগ কাজে লাগিয়ে, পরিস্থিতি ঘোলাটে করার ষড়যন্ত্র করছে।
অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের কিছু বক্তব্য নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক। সোমবার (১৩ জুলাই), উত্তরা বিএনএস সেন্টারে এক তরুণীকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পক্ষপাতিত্ব করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের পেছনে লুকিয়ে থাকা, ফ্যাসিবাদের দোসররা আন্দোলনে নেমে, গাড়ি ভাঙচুর ও চালকদের মারধর করে।
এছাড়াও, শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে অনেক আন্দোলনকারীর অশালীন বক্তব্য প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এমনকি, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যেতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ষড়যন্ত্র করতে দেখা গেছে আওয়ামীপন্থীদের। বাংলাদেশ ইনসাইডার্স, নেক্সট জেন বাংলাদেশ, প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন পেইজ থেকে করা হয়েছে অপপ্রচার।
কোনো কোনো পেইজ থেকে আবার, আওয়ামী আমলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে পুলিশকে দেখা যায় আগের পোশাক পরা অবস্থায়। অথচ, পুলিশের এই পোশাক পরিবর্তন হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়।
আওয়ামীপন্থীদের এসব পাতা ফাঁদে পা দিতে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীকেও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ও সরকার পতনের কথা বলে, ফেসবুকে বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করতে দেখা যায় অনেককেই।
এই আলোচনার মধ্যেই সামনে এসেছে শেখ হাসিনার একটি ভিডিও। যেখানে, শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে কটাক্ষ করতে দেখা যায় ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে। কেউ কেউ বলছে সেসময়ে হাসিনার ওই বক্তব্য নিয়ে ন্যূনতম আওয়াজ তোলা না হলেও, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করছে একটি মহল। অনেকেই আবার, এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছে নতুন বাংলাদেশে।
এদিকে, বুধবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে, ছয় দফা দাবির কথা জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যেখানে, পরীক্ষা সংক্রান্ত একাধিক দাবি রয়েছে।
সবমিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে নানা বিতর্ক, প্রশ্ন এবং বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে। যেখানে একদিকে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রশ্ন, অন্যদিকে সেই ইস্যুকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের ভিন্নমুখী ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য। এই অবস্থায়, পড়ালেখায় মনোযোগী হতে, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
আরও পড়ুন:



.jpg)




