শনিবার

৪ জুলাই, ২০২৬ ২০ আষাঢ়, ১৪৩৩

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৬

শেয়ার

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য
ছবি সংগৃহীত

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট এখনো কাটেনি। বর্তমানে ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি, অর্থাৎ ১৮ শতাংশের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি ৭২৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও তাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ খালি থেকে যাবে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে পাঠদান হয়। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭০২টি। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য রয়েছে।

শুধু সহকারী শিক্ষক নয়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক নেতৃত্বেও বড় ধরনের শূন্যতা রয়েছে। ৭০২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ২৪৯টি পদ খালি রয়েছে।

বর্তমান জনবলকাঠামোও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে গড়ে প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। অনেক বিদ্যালয়ে এ অনুপাত আরও বেশি।

এদিকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদ পূরণে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হবে। দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকসংকট নিরসনেও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষকসংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে তিনটি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা রয়েছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ১১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৩৫৪টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৭৭৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদও এনটিআরসিএর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হচ্ছে।



banner close
banner close