ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য গৃহীত ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের মেয়াদ মঙ্গলবার (৩০ জুন) আবারও শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ এর আগে দুই দফায় বাড়ানো হলেও কাজ সমাপ্ত হয়নি। বর্তমানে প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পুনরায় দেড় বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
মেগা প্রকল্পের আওতায় ৯টি ১০ তলা ভবন নির্মাণ এবং ১১টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল, একটি অ্যাকাডেমিক ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আবাসন ভবন, কর্মচারীদের জন্য একটি ভবন, দ্বিতীয় প্রশাসন ভবন এবং শেখ রাসেল হলের দ্বিতীয় ব্লক নির্মাণ। বর্তমানে ৯টি সাইটে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও অধিকাংশের গতি অত্যন্ত ধীর।
প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ঠিকাদারদের গাফিলতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে দায়ী করছেন। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ঠিকাদার পলাতক ও নিষ্ক্রিয় থাকায় কাজের গতি থমকে গেছে। প্রকল্প পরিচালক ড. নওয়াব আলী জানান, ঠিকাদারদের যথাযথভাবে কাজ করার জন্য ছয়বার চিঠি দেওয়া হলেও তারা গাফিলতি করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ৮ তারিখ ঠিকাদারদের সঙ্গে উপাচার্য চূড়ান্ত বৈঠকে বসবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. শরীফ উদ্দীন জানান, মেয়াদ শেষ হলেও নির্মাণকাজ চলমান রাখতে আরও দেড় বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক লোকসানের অভিযোগ তুলে কিছু ঠিকাদার কাজে ধীরগতি এনেছেন এবং কেউ কেউ কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।
প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর আগে লেকের পাশের ১০ তলা বিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন, ছাত্র হল-২ এবং শহিদ আনাস হলের দ্বিতীয় ব্লকের নির্মাণকাজে অনুমোদনহীন নিম্নমানের রড ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মাইশা কনস্ট্রাকশন’-কে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া, ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৬ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, ঠিকাদার এবং কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এই অর্থ লোপাটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:








