প্রথম সমাবর্তনের ছয় বছরের বেশি সময় পার হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন এখনো হয়নি। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন ৫ হাজার ৫৮০ জন শিক্ষার্থী। একই সময়ে গ্র্যাজুয়েটদের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ৩-এর বেশি সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বিভাগভিত্তিক গড় সিজিপিএতে শীর্ষে রয়েছে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগ, আর সর্বনিম্ন গড় সিজিপিএ অর্থনীতি বিভাগের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৫৮০ জন শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তারা সবাই দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সমাবর্তন না হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি অর্জনের স্বীকৃতি নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব গ্র্যাজুয়েট।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত স্নাতক সম্পন্ন করা প্রায় ২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশের সিজিপিএ ৩-এর ওপরে। বিজ্ঞান অনুষদের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩.০০ থেকে ৩.৬০-এর মধ্যে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ৩.১০ থেকে ৩.৫০, কলা অনুষদে ৩.০০ থেকে ৩.৩০, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৩.০০ থেকে ৩.৫০, প্রকৌশল অনুষদে ৩.০০ থেকে ৩.৬০ এবং আইন অনুষদে ৩.০০ থেকে ৩.৪০-এর মধ্যে রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক গড় সিজিপিএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ সর্বোচ্চ ৩.৯৪। অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড় সিজিপিএ সর্বনিম্ন ২.৫৩। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভাগভেদে পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষার ধরন এবং শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের পার্থক্যের কারণে এমন ফলাফল দেখা যেতে পারে।
এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আমাদের বিভাগে ৪-এর মধ্যে ৪ পাওয়াও সম্ভব। এখানে ল্যাবভিত্তিক ও গণিতনির্ভর কোর্স বেশি। কেউ যদি ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়, তাহলে পূর্ণ নম্বর অর্জন করা সম্ভব। সে কারণেই আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ তুলনামূলক বেশি।”
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, “সিজিপিএ সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের বিভাগেও ৪.০০ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থী রয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি ব্যাচেই ১০ থেকে ১৫ জন ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ পেয়ে থাকে। গণিত, পরিসংখ্যান ও ইকোনোমেট্রিকসভিত্তিক কোর্সের কারণে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি কাজ করে, তবে বিষয়টিকে অতিরিক্ত কঠিন বলা ঠিক হবে না।”
জানা যায়, ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম থেকে ৭ম ব্যাচ পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এরপর আর কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সমাবর্তনের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
সমাবর্তন স্থগিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “আমরা যাকে সমাবর্তনের অতিথি হিসেবে আনতে চেয়েছিলাম, শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রধান উপদেষ্টার সময়সূচি নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই স্যার (সাবেক উপাচার্য) আপাতত সমাবর্তন স্থগিত করেছিলেন।”
দ্বিতীয় সমাবর্তন কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলতে পারছি না। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আরও পড়ুন:








