সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গুল্টা বাজার শহীদ এম মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আছাদুজ্জামানকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। আদালত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা উপাধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষের বেতন কর্তন এবং দালিলিক কাগজপত্র হস্তান্তরে অস্বীকৃতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কলেজ গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যক্ষ মো. আছাদুজ্জামানের পূর্বের সকল সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে কলেজের সকল ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড ও দালিলিক নথিপত্র হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে সব ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার জন্য পত্র দেওয়া হলেও তিনি তা পালন করেননি। এর প্রেক্ষিতে গভর্নিং বডির সভাপতি তাকে চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।
কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ মো. আছাদুজ্জামান কলেজে গিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলে উপাধ্যক্ষ তাকে কোনো কাগজপত্র বুঝিয়ে দেননি, বরং বিরূপ আচরণ করেন। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আছাদুজ্জামান অভিযোগ করেছেন যে, উপাধ্যক্ষ ইতিপূর্বে তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন। দাবিকৃত অর্থের একাংশ গ্রহণ করার পর বাকি টাকা না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালত তাকে বৈধ অধ্যক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে অব্যাহতি প্রদান করেছেন এবং অন্য মামলার তদন্ত প্রতিবেদনেও অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে গভর্নিং বডির সভাপতি মো. শাহান শাহ তালুকদার জানান, উপাধ্যক্ষ বিধি অনুযায়ী কাজ না করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর ১২.১ ধারা মোতাবেক তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার বিষয়ে ইতিমধ্যে পত্র দেওয়া হয়েছে। কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সাধারণ শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন:






.jpg)

