টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক ৩১শে মে ছিল তার শেষ কর্মদিবস। ঈদের ছুটি চলমান থাকায় ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সার্বিক খোঁজখবর নিতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতেন বিনয় কৃষ্ণ বসাক। রোববার (৩১ মে) বিকালে তিনি বিদ্যালয়ে গেলে ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন (খণ্ডকালীন) মকবুল হোসেন, হাবিবুর রহমান সংগ্রাম, সুবাস পাল, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে এক প্রকার জোর করে চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে রাতের আঁধারে প্রধান শিক্ষকের রুম, অফিস রুম ও শিক্ষক মিলনায়তন রুম সহ প্রশাসনিক রুম গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। একরাত সময় চেয়ে সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসানের উপস্থিতিতে চাবি ও দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চেয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক। রাতটুকু সময়ও দেননি ক্ষমতালোভী শহীদুল ইসলাম ও তার কয়েকজন সহযোগী।
জানাযায়, ঈদের ছুটি চলছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হবে ৪ জুন। ৫ ও ৬ জুন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় বিদ্যালয় খুলবে ৭ জুন।
জানা যায়, গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ আলীর বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরও শেষ কর্মদিবস ছিলো রোববার (৩১ মে)। এর আগের থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্যে সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতার পিছনে দৌড়াতে থাকেন ক্ষমতালোভী ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম। সফল হওয়ার পথেই ছিলেন তিনি। ঈদের ছুটি থাকলেও সার্বিক খোঁজখবর নিতে রোববার বিদ্যালয়ে যান বিনয় কৃষ্ণ বসাক। এ সময় সেখানে গিয়ে হাজির হন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন (খণ্ডকালীন), সুবাস পাল, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক। দায়িত্ব ও চাবি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন তারা। অনুরোধ করে রাতটুকু সময় চেয়ে সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক। কিন্তু ক্ষমতালোভী ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে বলপ্রয়োগ করে চাবি ছিনিয়ে নেন। এদিকে এ ঘটনা অন্যান্য শিক্ষকদের কানে পৌঁছলে তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ে সনদ নিতে আসা দুই শিক্ষার্থী সাগর ও মারুফ বলেন- ঈদের ছুটির পর ৩ তারিখ ঢাকায় চাকরির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আজকে বিদ্যালয়ে এসে দেখি অফিসে যাওয়ার গেটে ও অফিস রুমে তালা। পরে আমরা অফিস সহকারীকে ফোন দিলে সে জানান তার কাছে নতুন তালার চাবি নেই। আজকের মধ্যে কাগজপত্র জমা না দিতে পারলে আমাদেরকে চারকিটা হয়তো হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর একটি রাত সময় চাওয়াতো দোষের কি? তারমধ্যে বিদ্যালয় ঈদের ছুটি চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর হলেইতো ভালো হতো। এভাবে বল প্রয়োগ করে চাবি নেয়ার কোন দরকার ছিলো না। ক্ষমতার লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। এলাকাতেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
তারা আরো জানান, খণ্ডকালীন শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আসছে। এর আগেও সে বিদ্যালয়ের ট্রেড ইনস্টাক্টর বাবলু মিয়াকে শারিরীক নির্যানসহ স্কুল থেকে বেড় করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। এছাড়াও সে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টিসহ প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেয়া এবং বিদ্যালয়ে তালা ঝুলার ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর দাবি বিতর্কিত ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য কোন সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হোক। যাতে করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক বলেন, শেষ সময়ে এমনটা আশা করিনি। কয়েকজন শিক্ষক চাপ দিয়েছে। আমি সকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে চেয়ে। সেই সময় আমাকে দেওয়া হয়নি।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয় টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনা যাচাই করে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:

.jpg)





.jpg)
