বুধবার

২০ মে, ২০২৬ ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ‘মামলা হোল্ড’ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অডিও ফাঁস

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬ ২২:০০

শেয়ার

ইবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ‘মামলা হোল্ড’ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ, অডিও ফাঁস
ছবি সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) এলাকায় ছাত্রদলের এক নেতা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়া একাধিক অডিও রেকর্ডে ওই কথোপকথন শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগটি ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অস্বীকার করেছেন। তবে বিষয়টি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত আবু সাঈদ রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী। অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া অডিওতে তাকে একটি মামলায় কয়েকজনের নাম এসেছে উল্লেখ করে টাকা দিলে বিষয়টি ‘হোল্ড’ করা সম্ভব বলে আলোচনা করতে শোনা যায়। কথোপকথনটি হোয়াটসঅ্যাপে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী তা অন্য একটি ফোন দিয়ে রেকর্ড করেন বলে জানানো হয়।

অডিওর একটি অংশে ভুক্তভোগী মামলাটি রাজনৈতিক কারণে করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে রনি বলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করেই নানা বিষয় ঘটে। আরেক অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, টাকার বণ্টন বিভিন্ন পর্যায়ে হয় এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন পক্ষ এতে যুক্ত থাকতে পারে। কথোপকথনে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আরেকটি অডিও ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, কয়েকজনের নাম আপাতত ‘হোল্ডে’ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের মাধ্যমে সমাধান হবে বলেও উল্লেখ পাওয়া যায় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। কথোপকথনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে এমন মামলার প্রবণতা পরিবর্তিত হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু সাঈদ রনি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষায়, তিনি কারও কাছে কোনো অর্থ দাবি করেননি এবং অডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তার কণ্ঠ নকল করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এটি তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্যোগ।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আরেক নেতা মাসুদ রুমী মিথুন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের এবং এতদিন পরে এটি সামনে আনা প্রশ্নবিদ্ধ। তার দাবি, এ বিষয়ে তার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি এবং রনির নম্বর হ্যাক হওয়ার বিষয়ও তাকে জানানো হয়েছে। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।



banner close
banner close