রবিবার

১৭ মে, ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সাময়িক বরখাস্ত ববির বেপরোয়া কর্মকর্তা সেলিনা

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬ ২০:২৪

শেয়ার

সাময়িক বরখাস্ত ববির বেপরোয়া কর্মকর্তা সেলিনা
ছবি সংগৃহীত

খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে, দায়িত্বে অবহেলা করায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের(ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম।

আজ রবিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোঃ হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-এ অংশগ্রহণকারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ফুটবল টিমের খেলোয়ারদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা- ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ২ (খ) এর (আ) মোতাবেক তার কর্তব্য অবহেলার বিষয়াদি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৪ এর (৬) মোতাবেক তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকীভাতা প্রাপ্য হবেন।

তবে খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের দাবি তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টিমের অধিনায়ক মোঃ রুবেল বলেন, "তার অসহযোগিতা ও অবহেলার কারণে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গিয়েও না খেলতে না পেরে ফিরে এসেছি। সে আমাদের কাগজপত্রে সিল দেয়নি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা দেয়নি,সে নিজেও যায়নি বা দায়িত্বশীল কাউকেও পাঠানো হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের ম্যাচ ছিল। উল্টো শারীরিক শিক্ষা দপ্তর থেকে ঢাবিকে জানানো হয়েছে,আমাদের মাঝে অনেকে শিক্ষার্থী না, বিকেএসপির খেলোয়াড় আছে।আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও খেলতে পারিনি।তাকে আর কোনোভাবেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা যাবে না।আমরা দীর্ঘদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অনুশীলন করেছি,অনুশীলনের সময়ও কোনো সহযোগিতা করেনি"

সব সময়েই থাকেন আলোচনায়-সমালোচনায় থাকেন সেলিনা বেগম। কখনো যৌন হয়রানীর আবেদন করে, আবার মদ পান করে,কখনো আবার প্রকাশ্যে মাদক ও ধুমপান করে। ফাঁস হয় তার একাধিক অশ্লীল ফোনালাপ।

সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। লালমনিরহাটের এক কালচারাল কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে আটকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেই কর্মকর্তার সাইবার ক্রাইমের মামলায় আদালত গত ২৯ জানুয়ারি সেলিনা বেগমের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।পড়ে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

২০১৮ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি। সাময়িক শাস্তিও পেয়েছিলেন সাবেক এই রেজিস্টার।

কয়েক বছর আগে সেলিনার করা যৌন হয়রানির মামলায় চাকরিচ্যুত হয়েছেন বরিশালের পুলিশ সুপার। সেলিনার বিরুদ্ধে মারধর,শ্লীলতাহানি ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর কমলচন্দ্র হাওলাদার বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিল। যার মামলা নম্বর -১/১৭।



banner close
banner close