বুধবার

১৩ মে, ২০২৬ ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

অডিটোরিয়াম ব্যবহারে ফি, নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ১৭:০২

শেয়ার

অডিটোরিয়াম ব্যবহারে ফি, নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা
ছবি বাংলা এডিশন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামের আধুনিকায়ন কাজ শেষ হয়েছে। তবে অডিটোরিয়াম ব্যবহারে নতুন করে ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। দিনে দুইটি স্লটে ভাগ করে প্রতি স্লটের জন্য তিন হাজার টাকা এবং দুই স্লট ব্যবহারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বহিঃস্থ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক স্লটে ১০ হাজার টাকা এবং দুই স্লটে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া ধার্য করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের প্রধান ভেন্যু এই অডিটোরিয়াম। সেখানে ফি নির্ধারণ করায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিকীকরণ নয়। প্রতি স্লটে তিন হাজার টাকা ভাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসন বারবার শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার কথা বলে। আমরা আশা করি, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।”

নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো টিএসসি বা আলাদা অডিটোরিয়াম নেই। ফলে বিভিন্ন ক্লাব ও বিভাগীয় আয়োজনের জন্য এই অডিটোরিয়ামই একমাত্র ভরসা। তিনি বলেন, “রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় থাকলেও শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে অনেক আয়োজন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।”

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “ক্যাম্পাসে আয়ের বিভিন্ন খাত থাকতে পারে, তবে তা যেন শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে না হয়। অডিটোরিয়াম আধুনিক করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য, নাকি আয়ের নতুন উৎস তৈরির জন্য।”

ফি নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, অডিটোরিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ ও অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয় বিবেচনায় রেখে নামমাত্র ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।



banner close
banner close