মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বাঁশখালীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় চাপে যুক্তরাষ্ট্র বাঁশখালীতে এক হাজার ইয়াবাসহ ধরা কক্সবাজার ও ময়মনসিংহের দুই কারবারি ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী ঢাকার সাভার ও ধামরাইয়ে ডিবির পৃথক অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জুলাই আন্দোলনে ইয়ামিন হত্যা: সাভারের সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: ‘হাতকাটা কাশেম’ রিমান্ডে ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের প্রাণহানি, আক্রান্ত এক হাজার ৭৭

সেশনজটে নাকাল আল-ফিকহের শিক্ষার্থীরা, আন্দোলন ছাড়া হয় না রেজাল্ট-পরীক্ষা

ইবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ১৯:২৮

শেয়ার

সেশনজটে নাকাল আল-ফিকহের শিক্ষার্থীরা, আন্দোলন ছাড়া হয় না রেজাল্ট-পরীক্ষা
ছবি বাংলা এডিশন

সেশনজটে নাকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ এন্ড ল' বিভাগের কয়েকশ শিক্ষার্থী। বিভাগীয় শিক্ষকদের অন্তর্কোন্দল, খাতা দেখতে সময়ক্ষেপণ, ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি ও নিয়মের বেড়াজাল সেশনজটের মূল কারণ বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে আন্দোলন ছাড়া রেজাল্ট-পরীক্ষা হয় না বলেও অভিযোগ করেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। ফলে পারিবারিক ও মানসিক চাপ এবং ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।

ক্যাম্পাস সূত্রে, ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে আল-ফিকহ নামে চালু হয় বিভাগটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেশনজটের গ্লানি কাটাতে পারেনি বিভাগটি। এখন পর্যন্ত কোনো সেশনই জটের কবল থেকে মুক্তি পায়নি। বর্তমানে বিভাগটিতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ছয়টি ব্যাচ অধ্যয়নরত রয়েছে৷ সবগুলো ব্যাচই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগগুলো থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিভাগটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৪.১ সেমিস্টারের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় জানুয়ারিতে কিন্তু এরপর ৩ মাস পেরোলেও রেজাল্ট হয়নি। অথচ একই অনুষদের বাকি দুই বিভাগ, আইন এবং আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের ইতোমধ্যেই স্নাতক শেষ হয়েছে। আবার আল-ফিকহ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৩.১ সেমিস্টারের পরীক্ষার ৩ মাস পেরোলেও রেজাল্ট হয়নি কিন্তু একই বর্ষের আইন অনুষদের অন্য দুই বিভাগের ৪.১ শেষের পথে। অন্যান্য ব্যাচগুলোও বাকি বিভাগের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। এছাড়া ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতিও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যায় একটি সূত্রে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগটির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তাই করে না। এখন পর্যন্ত কোন সেশন আন্দোলন ছাড়া অনার্স শেষ করতে পারিনি। অন্য বিভাগগুলো এক বছর আগে বের হয়ে চাকরির প্রস্তুতি নেয়৷ আর আমরা রেজাল্ট পরীক্ষার জন্য শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরি। আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।’

বিভাগটির ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী বশির আহমেদ বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে আমাদের ৪.১ পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর গত মাসে রেজাল্ট দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও রেজাল্ট হয়নি। তবে আজকের মধ্যে রেজাল্ট হবে বলে স্যাররা আশ্বস্ত করেছেন।’

এদিকে কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষের পরীক্ষা কমিটি থেক সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু জানতে চাইলে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘বিভাগে কিছু ভুল থাকলেও এটা একটা পরিবার। আমি পদত্যাগ করিনি।’

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আবু বকর মোহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারকে একাধিকবার কল দিলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

তিন মাস পরও রেজাল্ট না হওয়ার বিষয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘এখানকার নম্বর আমরা ইনপুট দিতে পারছিলাম না। ওইটা নিয়ে চেয়ারম্যান স্যার কালকে বসছিলেন, গতকালকেও সার্ভারে প্রবলেম ছিল। এটা রাতে শেষ করছি। ইনশাআল্লাহ কালকে রেজাল্ট হয়ে যাবে। ফার্স্ট সেমিস্টার রেজাল্টটা নিয়ে যদি ছেলেরা ক্রেজি হয়, অসুবিধা নাই। ফার্স্ট সেমিস্টার রেজাল্ট তো, তাকে কোনো চাকরি-বাকরি দিবে না। আমরা সবসময় সেকেন্ড সেমিস্টার রেজাল্টটা ফোকাস করি।’

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ড. নাজিমুদ্দিন একাধারে আইন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট অব কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক, গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীন কিছু তদন্ত কমিটির দায়িত্বে থাকায় বিভাগের একাডেমিক কাজে সময় দিতে পারেন না। এসব অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য অধিকাংশ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, সেমিনার ও মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগের বিষয়ে ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার একটা স্টুডেন্টকে বলতেই পারি যে আমার এই ব্যস্ততা আছে। তো সেই জিনিসটা যদি কেউ পাবলিক করে তাহলে করতেই পারে। আমি এখানে আসার পরে কোথাও কোন দায়িত্বে গাফিলতি করিনি।’

বিভাগের এসব সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সেশনজট কিছুটা তৈরী হয়েছে। আমরা সেটা কাটিয়ে ওঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’