মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বাঁশখালীতে এক হাজার ইয়াবাসহ ধরা কক্সবাজার ও ময়মনসিংহের দুই কারবারি ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী ঢাকার সাভার ও ধামরাইয়ে ডিবির পৃথক অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার জুলাই আন্দোলনে ইয়ামিন হত্যা: সাভারের সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: ‘হাতকাটা কাশেম’ রিমান্ডে ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের প্রাণহানি, আক্রান্ত এক হাজার ৭৭ ভূঞাপুরে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭ জনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা বরিশাল থেকে সবধরনের বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

নোবিপ্রবিতে সনদ ফি আত্মসাতের অভিযোগ, কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ১৭:০০

শেয়ার

নোবিপ্রবিতে সনদ ফি আত্মসাতের অভিযোগ, কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সনদ উত্তোলনের ফি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযুক্ত কর্মচারী মো. শাহাদাত হোসেন, যিনি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ উত্তোলনের নির্ধারিত ফি গ্রহণ করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে নকল ব্যাংক সীল ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

জানা গেছে, সনদ উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট রশিদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মচারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নিয়ে নিজেই জমা দেওয়ার আশ্বাস দিতেন এবং নির্ধারিত সময়ে সনদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতেন। পরে তিনি সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ভুয়া সীল ব্যবহার করে জাল রশিদ তৈরি করতেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এক শিক্ষার্থীর সন্দেহ থেকে। ওশানোগ্রাফি বিভাগের এক শিক্ষার্থী সনদ উত্তোলনের জন্য ২ হাজার টাকা দিলে পরবর্তীতে সন্দেহ হলে বিষয়টি দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাদের জানান। পরে যাচাই করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট তারিখে রশিদ থাকলেও ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি।

এসময় ব্যাংকের সীলেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রকৃত সীলে ‘Cash Receive’ লেখা থাকলেও ভুয়া সীলে ‘Cash Received’ লেখা ছিল। এছাড়া সীলের গঠনগত পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অভ্যন্তরীণ তদন্তে গত তিন মাসে এ ধরনের একাধিক জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে এবং আত্মসাৎ করা অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইনের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, এ ঘটনার তদন্তে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক, হিসাব পরিচালকের দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবিরকে সদস্য এবং কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”