বুধবার

৬ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

রাবি হলে হলে কমিটি ঘোষণা ঘিরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ মে, ২০২৬ ১১:৪১

শেয়ার

রাবি হলে হলে কমিটি ঘোষণা ঘিরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১১টি আবাসিক হলে আংশিক কমিটি ঘোষণা ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার, ৪ মে গভীর রাতে সংগঠনটির রাবি শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের স্বাক্ষরে প্রতিটি হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঘোষণার পর বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘোষিত তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি হলে পৃথকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়েদের হলগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি হলে দুই সদস্যের কমিটি দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে আগামী এক বছরের জন্য এসব কমিটি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়।

তালিকায় দেখা যায়, কিছু হলের ক্ষেত্রে নাম পরিবর্তনের পরও পুরোনো নাম ব্যবহার করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের পর নাম পরিবর্তিত একটি হলকে আগের নামেই উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান। এই অবস্থায় তাদের স্বাক্ষরে কমিটি ঘোষণা করাকে অনেকেই দূর থেকে সংগঠন পরিচালনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ঘোষিত কমিটির একাধিক সদস্যও বর্তমানে ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত বলে জানা গেছে। কেউ কেউ পূর্বের বিভিন্ন অভিযোগ, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে হলভিত্তিক সীমিত কমিটি ঘোষণাকে সংগঠন পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তব উপস্থিতি ও কার্যক্রম না থাকায় এটি এখনো প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করায় ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটি ধাপে ধাপে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় যেতে চাইছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন ক্যাম্পাস বা অনলাইনে কার্যক্রম চালালে তা নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সামগ্রিকভাবে, ক্যাম্পাসে সরাসরি উপস্থিতি না থাকলেও হলভিত্তিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সক্রিয়তার নতুন চেষ্টা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তব কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ছাড়া এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে।



banner close
banner close