দেশের একমাত্র পাবলিক মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি-তে দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশ ও ফেসবুক পোস্টের জেরে এক শিক্ষার্থীকে মাস্টার্সে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে দমাতে ‘তদন্তের’ দোহাই দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও চলমান অভিযোগের কারণেই তার ভর্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম আশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব এবং দুর্নীতি নিয়ে সাংবাদিকতা করে আসছিলেন। ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভর্তি দুর্নীতি’ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর থেকেই প্রশাসনের নজরে পড়েন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তার মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, আশিকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে পল্লবী থানা-য় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন এবং কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছেন, যা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এসব অভিযোগ এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ভর্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে আশিকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সরাসরি, ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘সিন্ডিকেট’-এর বিবেচনায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামান্য সমালোচনার কারণেও অনেককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এমন এক ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতির মধ্যে ভর্তি দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। এর ফলে প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তদন্ত ও থানায় জিডি করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম আশিক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। আমি সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছি। ভর্তি দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অনিয়ম নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছি, তা প্রমাণ ও বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ করেছি। দেড় বছর ধরে এসব বিষয় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে মূলত আমাকে মাস্টার্সে ভর্তি না দেওয়ার উদ্দেশ্যে।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিঠিতে জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং চলমান আইনি বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, একজন শিক্ষার্থীকে তার সাংবাদিকতার কারণে শিক্ষা জীবন থেকে বঞ্চিত করা মুক্তবুদ্ধি ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত।
আরও পড়ুন:

.jpg)






