শুক্রবার

১ মে, ২০২৬ ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের জেরে শিক্ষার্থীর ভর্তি স্থগিত, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৪৬

শেয়ার

সংবাদ প্রকাশের জেরে শিক্ষার্থীর ভর্তি স্থগিত, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক
ছবি বাংলা এডিশন

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি-তে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে তৌফিকুল ইসলাম আশিক নামের এক শিক্ষার্থীর মাস্টার্সে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তৌফিকুল ইসলাম আশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব ও ভর্তি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গত বছরের আগস্টের পর ভর্তি অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয় বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তার ভর্তি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে পল্লবী থানা-য় দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং হুমকি দিয়েছেন। এসব অভিযোগের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার বিষয়েও তদন্ত চলছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে বিবেচনাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত এবং অনিয়ম তুলে ধরার কারণে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে তাকে মাস্টার্সে ভর্তি না দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, চলমান তদন্ত ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কার্যক্রম থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



banner close
banner close