বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে কুবিতে পরীক্ষা স্থগিত, তদন্তে প্রশাসন

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:২৬

শেয়ার

র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে কুবিতে পরীক্ষা স্থগিত, তদন্তে প্রশাসন
ছবি বাংলা এডিশন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েকদিন পর সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়। পরে একটি গ্রুপে সিনিয়রদের নিয়ে আলোচনা কেন্দ্র করে দুই ব্যাচের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ক্যাম্পাসে ও বাইরে একাধিকবার দুই পক্ষকে বসানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ১৪ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়। এ সময় সিনিয়র ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রাতে ক্যাম্পাসের নির্জন স্থানে নিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবীন শিক্ষার্থী জানান, একদিন রাতে তাদের ক্যাম্পাসে ডেকে নিয়ে কাছাকাছি একটি স্থানে রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে ৮-১০ জন সিনিয়র উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, র‍্যাগিংয়ের পরও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠার পরই অর্থনীতি বিভাগ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করে। এ বিষয়ে ওই ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, তিনটি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি জানানো হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর কারণে পুরো ব্যাচ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেলেও ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের পাশাপাশি বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, বিভাগ থেকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের তথ্য জানানো হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। শৃঙ্খলাজনিত কারণ হলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

ছাত্র পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এটি প্রক্টরিয়াল বডি দেখছে। নবীন শিক্ষার্থীদের আগেই কাউন্সেলিং করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, কয়েকজনের কারণে যাতে পুরো ব্যাচ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, বিষয়টি তদন্তে বিভাগের দুইজন শিক্ষককে যুক্ত করে কাজ করছে প্রক্টরিয়াল বডি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close