বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

৩৮০ উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য, তদারকিতে ভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:০৯

শেয়ার

৩৮০ উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য, তদারকিতে ভাটা
ছবি সংগৃহীত

দেশের ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে ৩৮০ উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষে যেখানে শূন্য পদ ছিল ৩২৮টি, সেখানে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৮৯ উপজেলায় সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদও খালি রয়েছে। যদিও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কর্মচারী থেকে ৮২ জনকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তা না হলে শূন্যপদের সংখ্যা আরও বাড়ত।

একটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকায় তদারকি কার্যক্রমে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত পর্যাপ্ত নজরদারির বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকায় তাঁদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা কাজের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।

২০১৮ সালে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারদের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা হলে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা জারি হয়। তবে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত সেই স্থিতাবস্থা তুলে নেওয়ায় পদোন্নতির পথে আর আইনি বাধা নেই।

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উদ্যোগে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে মাউশি অধিদপ্তর সম্প্রতি ১১৯ জন কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতার খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, বিশেষ করে বিএড ডিগ্রি না থাকায় অনেকেই পদোন্নতির বাইরে থাকতে পারেন।

মাউশির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিধিমালা-২০২১ অনুযায়ী সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (গ্রেড-১০) থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (গ্রেড-৯) পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাটি ৩০ কর্মদিবসের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে আপত্তি বা মতামত লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন পর পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানালেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “একই পদে দীর্ঘদিন থাকায় ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে আমরা হতাশায় ভুগছি।”

পদ শূন্যতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকে দুই থেকে চারটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় একজন কর্মকর্তাকে একাধিক উপজেলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকতে হচ্ছে, যা তাঁদের মূল দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং, পরীক্ষা পরিচালনা, বই বিতরণ, উপবৃত্তি কার্যক্রম, এমপিওভুক্তি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজসহ বহুমুখী দায়িত্ব পালন করতে হয় এসব কর্মকর্তাকে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এসব কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

মাউশি অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক অধ্যাপক মো. শাহজাহান জানান, প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতার তালিকা চূড়ান্ত করে পদোন্নতির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।



banner close
banner close