মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে জাল সনদে নিয়োগ পাওয়া ৭৩৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে সরকার। এর মধ্যে ৪৭১ জনকে ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং বাকি ২৬২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তরা জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি তহবিল থেকে ১৮২ কোটি টাকার বেশি বেতন-ভাতা নিয়েছেন।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২৬২ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ২৫১ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ এবং ১১ জনের বিপিএড, বিএডসহ অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল। তারা বিভিন্ন মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ৪৭১ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ১৯৪ জনের শিক্ষক নিবন্ধন, ২২৯ জনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং ৪৮ জনের অন্যান্য সনদ জাল প্রমাণিত হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্টদের চাকরিচ্যুত করে।
ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন জাল সনদ শনাক্ত হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না। মূল বাধা ছিল যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতা ও ব্রডশিট জবাব না পাওয়া। নতুন নির্দেশনার ফলে এখন যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে এবং চূড়ান্ত তালিকা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “শিক্ষকরা জাতির বিবেক। তাঁদের মধ্যে কেউ যেন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত না হন, সে জন্য আমরা কঠোরভাবে কাজ করছি।”
ডিআইএ সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে আরও তিন শতাধিক শিক্ষকের সনদ যাচাই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাল সনদধারী শিক্ষক দেশের প্রায় সব জেলায় পাওয়া গেলেও রংপুর, রাজশাহী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে এর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
মাউশি অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাল সনদ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের এমপিও সুবিধা বন্ধ করে বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে নেওয়া বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবসরে থাকা ব্যক্তিদের সুবিধাও বাতিল করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রক্রিয়ায় মধ্যবর্তী দপ্তরে ফাইল আটকে থাকার সুযোগ কমে গেছে। ফলে দ্রুত যাচাই ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭৩৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এরই প্রতিফলন।
আরও পড়ুন:

.jpg)






