টানা প্রায় ১৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থবির হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই সংকট সোমবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত (প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) স্বাভাবিক হয়নি। ফলে মিডটার্ম ও সেমিস্টার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন বিভাগে নির্ধারিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং কিছু সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করতে পারছেন না। ল্যাপটপ ও মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় অনেকেই কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, “সেমিস্টার ফাইনাল চলাকালে এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। দ্রুত বিদ্যুৎ না এলে সমস্যা আরও বাড়বে।”
দীর্ঘ সময়ের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় নির্ধারিত প্রেজেন্টেশন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ম. মিজানুর রহমান জানান, রোববার রাতেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শালবন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটি ও যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মেরামতের কাজ চললেও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানানো যায়নি।
পিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী পিন্টু দেবনাথ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং সন্ধ্যার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় দপ্তরের সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। “আমাদের কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল। একটি বিভাগ ইতোমধ্যে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করেছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিকল্প হিসেবে জেনারেটর থাকলেও তা সীমিত সক্ষমতার হওয়ায় পুরো কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
.jpg)







