রবিবার

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

শিক্ষা কারিকুলামে বড় পরিবর্তন, আসছে নতুন দুই পাঠ্যবই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৫৩

শেয়ার

শিক্ষা কারিকুলামে বড় পরিবর্তন, আসছে নতুন দুই পাঠ্যবই
ছবি সংগৃহীত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘সোশ্যাল কালচার’ নামের দুইটি নতুন বই পাবে। একই সঙ্গে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে এআই ও রোবোটিকসের মতো আধুনিক বিষয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করবে সরকার। তরুণদের গবেষণায় সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তিন ধাপে এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছর কমিটি গঠন ও পরিকল্পনা শেষে ২০২৭ সালে পাঠ্যবই পরিমার্জন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম চালু হবে।

নতুন কারিকুলামে শারীরিক শিক্ষার আওতায় সাতটি খেলা থাকছে— ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কারাতে, দাবা, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকস। এই বিষয়ে কোনো পরীক্ষা হবে না, তবে ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে শারীরিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিল্পকলা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কারিকুলাম প্রণয়নে ২০০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে। এতে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিরা থাকবেন। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক কারিকুলামে অনেক ঘাটতি আছে। চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই পড়তে গিয়ে মুশকিল হচ্ছে। ভাষা ও পাঠ উপযোগী করতে কারিকুলাম পর্যালোচনা ও আপডেট করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ঘাটতি থাকলে কোনো কারিকুলামই সফল হবে না। শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা যাচাই করে কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। কোচিং বা গাইড বইনির্ভরতা বৃদ্ধি করে এমন পথে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করলেও তা বাস্তবতা বিবেচনা না করায় ব্যর্থ হয়। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৪২ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝেন না এবং ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী গাইড বইনির্ভর হয়ে পড়ে। ২০২২ সালে ফিনল্যান্ডের আদলে আনা নতুন কারিকুলামও নানা জটিলতায় ব্যর্থ হয়।

বর্তমান বিএনপি সরকার দেশের প্রেক্ষাপট, অর্থনীতি ও যুগোপযোগিতা বিবেচনা করে নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, হাতে-কলমে শেখা ও টিম ওয়ার্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে চলমান পাঠ্যবই পরিমার্জন ও নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করছে সরকার। শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কোনো ধরনের দলমত বিবেচনা না করে উচ্চমানের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে কাজ করানো হবে।



banner close
banner close