ঝিনাইদহ শহরের জি.কে (গঙ্গা-কপোতাক্ষ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা দখল ও ভাঙা প্রাচীরের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও প্রতিকার না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়ক সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও জেলা প্রশাসনিক এলাকার কাছাকাছি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কলোনিতে অবস্থিত ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বসবাস হলেও তাদের ব্যবহৃত প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ রাস্তা বিভিন্ন স্থানে দখল হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার অংশবিশেষ দখল করে তা আবাদি জমি ও বসতভিটার সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে, ফলে পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশঘেঁষা পাউবোর জরাজীর্ণ প্রাচীরের অনেক অংশ ভেঙে পড়েছে, আর বাকি অংশ যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণ চাকলাপাড়া, চানমারি পাড়া ও বিলপাড়ার শিশুরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই পথ ব্যবহার করছে। এতে স্কুলে উপস্থিতির হার কমে গেছে এবং শিক্ষার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী রিয়া খাতুন বলেন, সমস্যার সমাধান চেয়ে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষরসহ পৌরসভার প্রশাসকের কাছে আবেদন করলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইভাবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজয় জানায়, ভাঙা প্রাচীরের পাশ দিয়ে চলাচল করতে তার ভয় লাগে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, রাস্তা ও প্রাচীরের ভগ্নদশার কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস জানিয়েছেন, কলোনি সংস্কার প্রকল্পের আওতায় প্রাচীর নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বারবার আবেদন জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ। দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও নতুন প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন:








