কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিনজন শিক্ষক, একজন কক্ষ পরিদর্শক ও দুইজন কেন্দ্র সচিবকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ।
পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার হলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেয়ায় তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকেই সঠিকভাবে উত্তর লিখতে পারেনি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরই আমরা শিক্ষকদের বিষয়টি জানাই। কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে উল্টো বকাঝকা করেন এবং ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলেন। এতে আমরা কিছুই লিখতে পারিনি। আমাদের একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। তাদের ফলাফলের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়া হোক।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শিক্ষকদের এমন গাফিলতির কারণে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে, এ প্রশ্ন তুলে তারা সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানান।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্রী এবং কিশোরীনগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থী ছিল। এদের মধ্যে ১৬ জন মেয়ে ও ১ জন ছেলে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন দৌলতপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়ার আলী। কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ভূরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাশেদা খাতুন এবং বালিরদীয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বায়রুল ইসলাম।
কেন্দ্র সচিব রাশেদা খাতুন জানান, প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে বুঝতে পেরে দ্রুত প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সহকারী কেন্দ্র সচিব মো. বায়রুল ইসলামও একই বক্তব্য দেন এবং ভুলের কথা স্বীকার করেন।
কক্ষ পরিদর্শক ইয়ার আলী বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র একসঙ্গে টেবিলে রাখা ছিল। ভুলবশত শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে সঠিক প্রশ্নপত্র দেয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দ্য গুহ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট তিনজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:








