সোমবার

২০ এপ্রিল, ২০২৬ ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

কুবিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্টসহ শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:১৯

শেয়ার

কুবিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্টসহ শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হলগুলোতে মাদকাসক্তি ও র‍্যাগিং নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্ট চালুসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আবাসিক হলে মাদক সেবন ও নিরাপত্তা সংকট বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে বিজয়-২৪ হল-এর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। সেখানে নিয়মিতভাবে গাঁজা সেবনের আসর বসছে, যা আইনবিরোধী এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, মাদকাসক্ত কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারামারি ও র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে নতুন ও জুনিয়র শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জুনিয়রদের মাদক গ্রহণে প্ররোচিত করার অভিযোগও উঠেছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

তারা জানান, অল্প কিছুদিন আগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গাঁজাসহ আটক করে হল থেকে বহিষ্কার করা হলেও বর্তমানে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় একই ধরনের অনিয়ম আবারও বেড়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা, র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা জোরদার, সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু এবং নিয়মিত ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, হলের ছাদ ও কিছু নির্দিষ্ট কক্ষ মাদকসেবীদের জন্য ‘সেফ জোন’-এ পরিণত হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মাদকাসক্তদের আনাগোনা বাড়ে এবং বিভিন্ন হল থেকে অতিথি এসেও মাদক সেবন করে।

তিনি অভিযোগ করেন, “হল প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কিছুদিন আগে তিনজনকে বহিষ্কারের পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও গত দুই মাসে তা আবার কয়েকগুণ বেড়েছে।”

আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন বলেন, নিয়মিত ডোপ টেস্ট চালু করলে মাদকাসক্তদের শনাক্ত করে কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এটি অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করবে।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট মাহমুদুল হাসান খান বলেন, তার কাছে লিখিত অভিযোগ না এলেও প্রক্টরের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আবার অভিযান শুরু করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় থাকলে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম জানান, স্মারকলিপি পাওয়ার পরপরই এ বিষয়ে সভা করা হয়েছে। “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। র‍্যাগিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।



banner close
banner close