বুধবার

১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে ২৫৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২১

শেয়ার

লক্ষ্মীপুরে ২৫৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
ছবি সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর জেলার ৭৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫৮টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ১৯টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর তদারকি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৭৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ২৫৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য। ফলে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুসারে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১০৯টি, রামগঞ্জে ৭৪টি, রামগতিতে ৪৩টি, রায়পুরে ১৬টি এবং কমলনগর উপজেলায় ১৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদও উল্লেখযোগ্য। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে তিন বছর, আবার কোনোটিতে ১৪ বছর ধরে এই পদ শূন্য রয়েছে।

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৩৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৪ জন কর্মরত আছেন। রামগঞ্জ উপজেলায় এ পদটি পুরোপুরি শূন্য। ফলে গড়ে একজন কর্মকর্তাকে ৫২টি বিদ্যালয় তদারকি করতে হয়। নিয়ম অনুসারে ২০ থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য একজন কর্মকর্তা থাকার কথা।

সোনাপুর জীবনেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার শীল জানান, ১৪ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। অফিসের নথিপত্র, প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে কাজের সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়েছে। রায়পুর পৌরসভা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার এবং দক্ষিণ রায়পুর বিএম বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার পাইকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

রায়পুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমেদ এবং রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ক্লাস নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। এই পদ শূন্য থাকলে শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, প্রধান শিক্ষক পদের ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার নিয়ম রয়েছে। আদালতে মামলা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দ্রুত মামলা নিরসন করে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে এ বিষয়টি জানানো হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় দ্রুত পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সংকট নিরসন হবে।

অভিভাবকরা জানান, যথাযথ তদারকি না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। সংকটের মূল কারণ হিসেবে অবসর গ্রহণ, সময়মতো পদোন্নতি না হওয়া এবং নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।



banner close
banner close