শুক্রবার

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ছেলেকে চাকরি দিতে ‘ভুয়া কমিটি’: ঈদের আগের দিন নিয়োগ, সুন্দরগঞ্জে তোলপাড়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫৬

শেয়ার

ছেলেকে চাকরি দিতে ‘ভুয়া কমিটি’: ঈদের আগের দিন নিয়োগ, সুন্দরগঞ্জে তোলপাড়
ছবি বাংলা এডিশন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি দাখিল মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি গঠন ছাড়াই ভুয়া কমিটি দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুপার মো. শহিদুর রহমান নিজের ছেলেকে চাকরি দিতে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি ঈদুল ফিতরের আগের দিনই গোপনে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ আগস্ট ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য আবেদন করা হলে তৎকালীন ইউএনও রাজ কুমার বিশ্বাস উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেনকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ৭ অক্টোবর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করলেও পরবর্তী ধাপগুলো আর সম্পন্ন হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠনই হয়নি।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কমিটি গঠন না হলেও সেটি দেখিয়ে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ২০ মার্চ, ঈদের আগের দিন, গাইবান্ধা শহরে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে সুপারের ছেলে এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে সভাপতির ভাগিনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া বাকি তিনটি পদ—ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী ও অফিস সহায়ক পদেও নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিজের ছেলেকে নিয়োগ দিতে আইনি বাধা থাকায় সহকারী সুপার মো. গোলজার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সুপার দেখিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে ডিজির প্রতিনিধি ছাড়া অন্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে।

নিয়োগ কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি সুমন্ত চন্দ্র বর্মণ বলেন, তাকে সদস্য করা হলেও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। একই ধরনের বক্তব্য দেন আরেক সদস্য সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন হয়নি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তারা অবগত নন।

সহকারী সুপার মো. গোলজার হোসেন জানান, তার জানা মতে মাদ্রাসায় কোনো ম্যানেজিং কমিটি গঠন হয়নি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেনও একই কথা জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুপার মো. শহিদুর রহমান কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করলেও নিয়োগ প্রসঙ্গে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। অন্যদিকে অভিযুক্ত সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর আর কোনো কার্যক্রম হয়নি, ফলে কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। তবুও ভুয়া কমিটি দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তিনি শুনেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার জানান, ঈদের আগের দিন দুইটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটি বৈধ না হলে অভিযোগের ভিত্তিতে তা বাতিল করা হতে পারে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



banner close
banner close