বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আগামী এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে বা তার আগে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এবারের নিবন্ধনে শূন্য পদের সংখ্যার সমান প্রার্থীকে চূড়ান্ত সনদ দেওয়ার নতুন নীতি চালু করা হচ্ছে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানিয়েছে, আগে নিবন্ধন পরীক্ষার সঙ্গে শূন্য পদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রার্থীকে সনদ দেওয়া হতো। নতুন পদ্ধতিতে প্রথমে সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য পদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এবং পরে ১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর ৩১ মার্চ থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের ই-রিকুইজিশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে http://ngi.teletalk.com.bd বা www.ntrca.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে তথ্য প্রদান করতে হবে। অফলাইন, হার্ডকপি বা ই-মেইলে পাঠানো তথ্য গ্রহণ করা হবে না।
এনটিআরসিএ আইন-২০০৫ ও সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুসারে ই-রিকুইজিশন বাধ্যতামূলক। তথ্য গোপন বা নিয়ম অমান্য করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হতে পারে।
পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগের তিন ধাপের (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা) পরিবর্তে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপর ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত মেধা তালিকায় যুক্ত করা হবে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। পরীক্ষা শেষের চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার শূন্য পদের সঠিক তথ্য নিয়ে সেই অনুযায়ী নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং পদের বাইরে কোনো সনদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, এমসিকিউ পরীক্ষার পর ভাইভা নেওয়া হবে এবং ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হবে। ফল প্রকাশে দ্রুততা আনার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে।
পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রার্থীদের এনটিআরসিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:








