জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পরপরই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হল দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের ২ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রত্ব নেই এমন কিছু ছাত্রদলেের নেতা অবৈধভাবে হলে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজয়–২৪ হলের ৫২২ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। যিনি ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে একই সেশনের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সভাপতি পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান উঠেছেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা, তাদের কারোরই বর্তমানে ছাত্রত্ব নেই। তবে সাইফুল ইসলাম এমবিএ সন্ধ্যাকালীন কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে হল প্রশাসনের অনুমতির কথা বললেও পরে বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তিনি হলে থাকেন না; মাঝেমধ্যে অতিথি হিসেবে আসেন।
বিজয়–২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মাহমুদুল হাসান খান জানান, সাইফুল ইসলামকে হল প্রশাসন থেকে উঠানো হয়নি এবং তিনি অনুমতি না নিয়েই হলে উঠেছেন। পরে বিষয়টি ফোনে অবহিত করেন। প্রভোস্ট বলেন, বৈধ ছাত্রত্ব ছাড়া হলে অবস্থানের সুযোগ নেই, বিশেষ করে সন্ধ্যাকালীন কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধার কোনো বিধান নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আতিকুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ছোট ভাইদের কক্ষে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন এবং হলে ওঠেননি। তবে তাকে হলে থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রভোস্টের কাছে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা গেছে। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট মো. জনি আলম বলেন, নিয়মিত অনার্স–মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকে হলে থাকার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
ছাত্রদলের এমন কর্মকাণ্ডে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংগঠনটির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম আবির ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, তারেক রহমানের ভিশন শেয়ার দেন, ওনার জনকল্যাণমুখী প্ল্যান শেয়ার দেন। কিন্তু তারেক রহমান কি ৪০ বছর বয়সে আপনারে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে বলসে? একটা রানিং শিক্ষার্থীরে আবাসনের ব্যবস্থা না কইরা দিয়ে নিজে আইসা হলে সিট দখল করতে বলসে? কিসের রাজনীতি কায়েম করতে চান। ভয়ের?
তিনি আরো বলেন, "ভয়কে ছাত্রসমাজ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। তারেক রহমান আপনারে ৪০ বছর বয়সে নিজেরে ছাত্র কইয়া বেড়াইতে কয় নাই, তার উপর আপনি দখলদারি কইরা বেড়াইতেছেন। শুণেন আমাদের মুখ চাইপা ধইরেন না, তাহলে বড় ক্ষতি হইয়া যাবে। একটা কথা বোল্ড করে লিখে রাখেন, আপনারা ছাত্রদলের ক্ষতি করতেছেন, তারেক রহমানের ক্ষতি করেতেছেন।" তবে তিনি কারো নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হাসান বলেন, “যখন ১৩তম ও ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে হল ছাড়ে, তখন হঠাৎ করে ৮ম ব্যাচের কোনো সাবেক শিক্ষার্থীর হলে ওঠা আমাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন সাবেক শিক্ষার্থীর হলে কী কাজ? এটি স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। অথচ ১৮তম ও ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় বছর আগে ক্যাম্পাসে এলেও এখনো বিজয়-২৪ হলে তাদের কাউকে আসন দেওয়া হয়নি। প্রশাসন সবসময় সিট সংকটের কথা বললেও, ৮ম ব্যাচের একজন সাবেক শিক্ষার্থী কীভাবে হলে ওঠেন সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ জানান, তাদের হলে উঠার বিষয়ে তিনি জানেন না।"
আরও পড়ুন:








