সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আবারও রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন তেজগাঁও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে ফার্মগেট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ফার্মগেটে নামা যানবাহন এবং ফার্মগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে প্রবেশকারী সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে করে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাকিব হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। অবরোধ চলাকালে তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি একই দাবিতে ফার্মগেট মোড় অবরোধ করেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। ওই দিন পুলিশের মধ্যস্থতায় ছয় সদস্যের একটি শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান রাফি, সাইফুর রহমান, ফাজাল আহমেদ, আবু বক্কর সিদ্দিক শরীফ ইসলাম, মিলিহা বিনতে নাফিজ এবং আরিফুল আলম।
সেদিন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আব্দুর রহমান রাফি বলেন, উপদেষ্টাদের বক্তব্যে তারা সন্তুষ্ট হলে আর কোনো কর্মসূচিতে যাবেন না। তবে সন্তুষ্ট না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত হন উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফার্মগেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
আরও পড়ুন:








