চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)–এর প্রতিনিধিরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে শনিবার দুপুরে তাকে আটক করা হয়।
দুপুর ১২টার পর আইন অনুষদ ভবন থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে চাকসু প্রতিনিধিরা তাকে আটক করেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসু প্রতিনিধিরা সেখানে গেলে তিনি স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চাকসুর আইন সম্পাদক ফাজলে রাব্বি তাওহীদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান তাকে আটক করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।
চাকসু প্রতিনিধিদের অভিযোগ, হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে হেনস্তা, চবি শাখা ছাত্রলীগের একটি উপগ্রুপকে পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় সম্প্রতি তার বেতনও বন্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ওই শিক্ষক গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব নিয়ে ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে।
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, তিনি জুলাই আন্দোলনের কোনো মিছিল বা কর্মসূচিতে অংশ নেননি। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে তিনি শাস্তি মেনে নেবেন বলেও দাবি করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, শিক্ষকটি মব পরিস্থিতির আশঙ্কায় দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পালানোর সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো ধরনের মব পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
আরও পড়ুন:








