সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বৈষম্য নিরসনে নন ক্যাডার বিধি-২০২৩ সংশোধনসহ ৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নন ক্যাডার চাকরি প্রত্যাশীরা। এদিকে দাবি বাস্তবায়নে দ্বিতীয় দিনের মতো আগামীকাল শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে লং মার্চ করা কথা রয়েছে আন্দোলনকারীদের।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘বৈষম্যের শিকার বিসিএস চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা চাকরি প্রত্যাশী রাজীব হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি নিয়ে যমুনার অভিমুখে যাত্রা করে গিয়ে পুলিশের বাঁধার মুখে সম্মুখীন হয়েছি। আমরা আহ্বান জানাবো, আন্দোলন বৃহত্তর পর্যায়ে না যাওয়ার আগে আমাদের দাবি মেনে নিন। আমরা পুলিশের বাঁধার প্রতিবাদে এবং ৩ দফা দাবি বাস্তাবায়নে শনিবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একত্রিত হবো এবং যমুনার অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করব। প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানাবো, সরকারি সফরে যাওয়ার অতিদ্রুত আপনার কার্যালয়ে যেই ক্যাডার-নন ক্যাডার বিধি রয়েছে তা অনুমোদন করুন। এটি অনুমোদন হলেই যেই ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে তারা পড়ার টেবিলে ফিরে যাবে।’
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবিগুলো হলো- অধিযাচনকৃত পদসহ ৪৪তম বিসিএসের পূনঃফলাফল দ্রুত প্রকাশ; নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) (সংশোধন) বিধিমালা ২০২৫ অবিলম্বে প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষর ও অনুমোদনের মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ করে ৪৩, ৪৪তম সহ চলমান প্রত্যেক বিসিএস হতে অধিকহারে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশের ব্যবস্থা এবং ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য অধিযাচনকৃত পদসমূহে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুপারিশ।
সরকারি চাকরি নিয়োগে দূর্নীতি করতে সিন্ডিকেটরা বেশ সক্রিয় এবং তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘এই চাকরি জন্য কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলন ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন হলো অথচ তারপরে এখনও একটা সিন্ডিকেট নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে যাচ্ছে। প্রমাণসহ সরকারি চাকরিতে কিভাবে দূর্নীতি হয় তা গণমাধ্যমে এলেও এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ৪৩ তম বিসিএসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৯ হাজার পদ আমাদের দেয়ার জন্য পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে কিন্তু একটি বিধির কারণে তা আটকে আছে। আমরা চাই, ২৩ এর নন ক্যাডার বিধি বাতিল করে, অবিলম্বে ২৫ সালের যে সংশোধিত যে বিধি রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জালাল আহমদ বলেন, সরকারি চাকরিতে কোন বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে নেয়া হবে।’
এর আগে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ৩ দফা দাবিতে জড়ো হতে থাকেন চাকরি প্রত্যাশীরা। এক পর্যায়ে যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা করতে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদ-চারুকলা-শাহবাগ হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে এলে পুলিশ বেরিগেড দিয়ে বাঁধা প্রদান করলে সেখানেই অবস্থান নেন মুহুর্মুহু বিক্ষোভ-স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সন্ধ্যায় সেখান থেকে পদযাত্রা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
আরও পড়ুন:



.jpg)




