মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ছাত্রদল নেতা হাসিবের মৃত্যুতে শোকাহত জবি ক্যাম্পাস

ফাহিম হাসনাত, জবি

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:০৯

শেয়ার

ছাত্রদল নেতা হাসিবের মৃত্যুতে শোকাহত জবি ক্যাম্পাস
ছবি: বাংলা এডিশন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ক্যাম্পাসে। সহপাঠী, শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আবেগঘন বার্তায় তাঁকে স্মরণ করছেন।

ক্যাম্পাসের এক সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্বকে হারিয়ে শোকাহত হয়েছেন ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জবি শাখার সেক্রেটারি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, 'জবি পরিবার হারালো এক আপোষহীন জুলাই যোদ্ধাকে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক। তাঁর অবদান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।'

আপ বাংলাদেশ জবির সংগঠক তাওহিদুল ইসলাম বলেন, 'ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল জুলাই অভ্যুত্থান থেকে। আন্দোলন, সংগ্রাম আর আড্ডায় তাঁর স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে। হঠাৎ মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।'

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, 'রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও তিনি ছিলেন আমার আপনজন। সবসময় সাহস জুগিয়েছেন। এমন আন্তরিক মানুষ খুব কমই দেখা যায়।'

ছাত্রদল জবি শাখার আহ্বায়ক সদস্য ইমরান হাসান ইমন স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের আগে ভাইয়ের সাথে শেষবার চা খেয়েছিলাম। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। অথচ আজ তিনি আর নেই। ভিতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।'

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও কবি-লেখক-পাঠক ফোরামের সভাপতি আয়াতুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, 'হাসিব ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তাঁর পাশে ছিলাম। চোখের সামনে তাঁকে হারানোর দৃশ্য এখনো ভোলার মতো নয়। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ও অমায়িক একজন মানুষ।'

আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানা বলেন, 'তিনি ছিলেন সাহসী, নিরহংকারী ও উদার হৃদয়ের মানুষ। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।'

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ জবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আকরামুল হোসেন বলেন, 'হাসিব ভাই ছিলেন রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা। তাঁর মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।'

শুক্রবার রাতে জবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত প্রথম জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মী, নির্বাচিত ডাকসুর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও অসংখ্য শিক্ষার্থী। শনিবার নিজ বাড়ি ভোলায় তার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও সর্বস্তরের অসংখ্য মানুষ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন।

জানা যায়, সাংগঠনিক কাজ শেষে হাসিব হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। এমতাবস্থায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসিবুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে জবি শাখা ছাত্রদলসহ পুরো ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



banner close
banner close