মঙ্গলবার

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিবাদে ইউটিএল, বর্বরতা থামাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ২০:০৯

শেয়ার

সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিবাদে ইউটিএল, বর্বরতা থামাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
ছবি: বাংলা এডিশন

গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য, ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী আন্তর্জাতিক মানবিক নৌ-অভিযান গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওপর ইজরায়েলি আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। এসময় ইসরায়েলি বর্বরতা থামাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই আহ্বান জানান তারা। এমন আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধনে ঢাবির ফিনান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এইচ এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সক্রিয় হতে হবে।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়লর অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, ‘দুই বছর ধরে গাজার মুসলমান ভাই-বোনদের ওপর ইসরায়েল যে বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে তা অকল্পনীয়। মুসলিম বিশ্ব আজ নিশ্চুপ, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। মানবতা ঘুমিয়ে গেছে। যে চুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, তা কার্যকর হলে তাদের স্বাধীন আবাসভূমির স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। আমি সেই চাপিয়ে দেওয়া চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছি। বরং দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সহাবস্থানই এই সংকটের একমাত্র সমাধান হতে পারে।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফিলিস্তিনের মানুষ কেবল মুসলমান বলেই আজ তাদের ওপর ইসরায়েল অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এটি মানবতার জন্য চরম লজ্জাজনক অধ্যায়। একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হয়েও ইসরায়েল সারা পৃথিবীকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যখন কিছু মানুষ সামান্য খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, অথচ ইসরায়েল সেটিও সহ্য করতে পারছে না। তারা এই মানবিক উদ্যোগকে বন্ধ করে দিয়েছে। আজ প্রশ্ন জাগে- কোথায় জাতিসংঘ; কোথায় ওআইসি?’

সভাপতির বক্তব্যে ইউটিএলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুবায়ের মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ‘গাজার অবরোধ ভেঙে দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মানবতাকর্মীদের অবরুদ্ধ ও আটক করে ইসরায়েল মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। ইসরাইল ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধ করছে।

সর্বশেষ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে একপাক্ষিক প্রস্তাব ফিলিস্তিনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তা হয়তো পরিস্থিতির কারণে হামাসকে মেনে নিতে হতে পারে। তবে আমরা ফিলিস্তিনবাসীদের সঙ্গে ঘোষণা করছি, গাজায় যুদ্ধবিরতি করে এমন কোনো প্রশাসন নিয়োগ করা যাবে না যারা আত্মস্বীকৃত মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত। গাজায় যদি প্রশাসন নিয়োগ করতেই হয়, তাহলে সে প্রশাসন ফিলিস্তিনের মধ্য থেকেই তৈরি করতে হবে। আমরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানাই। গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে আটককৃত মানবাধিকারকর্মীদের মুক্তি এবং দ্রুততম সময়ে ত্রাণ তহবিল পৌঁছানোর দাবি জানাচ্ছি।’

এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে ইউটিএলের সদস্য ড. মো. কামরুল হাসান, ঢাবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. খ. ম. ইউনূস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী এম, বরকত আলী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু লায়েক, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।



banner close
banner close