নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নেই কোনো ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তান লালন-পালনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলছেন অনেক নারী শিক্ষার্থী। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সমস্যায় ভুগছেন নারী শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ক্লাস ও প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে নারী শিক্ষকদের পড়তে হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের অভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনকে করছে আরও কঠিন। ফলে শিশু সন্তান নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত পড়ছেন বিব্রতকর ও বিড়ম্বনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই অনেক নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সন্তান নিয়ে আসেন। কিন্তু শিশুদের জন্য নেই মাতৃদুগ্ধ দানকক্ষ বা এমন কোন নির্ধারিত স্থান। এতে করে তাদের অস্বস্তিকর পরিবেশে সন্তানকে দুধ খাওয়াতে হয়।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাস করতে এসে সন্তানকে সঙ্গে আনতে হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে কোথাও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকায় লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের দাবি জানাই।
একজন নারী শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অনেকে তাদের শিশু সন্তান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে অথচ তাদের জন্য এখনো কোনো ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার নেই। অফিসে পুরুষ সহকর্মী থাকায় সেখানেও শিশুকে দুধ খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এতে বাধ্য হয়ে অন্যত্র যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। এটি মা-শিশুর স্বাস্থ্য উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিনথিয়া শাহরীন বৃষ্টি বলেন, আইওয়াইসিএফ-এর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধই খাওয়াতে হবে। এরপর দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আকস্মিক শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার থাকা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অংশ। এটি নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজুয়ানুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি,ফান্ড পাওয়া সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে ।
আরও পড়ুন:








