মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সদরঘাটে জবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: কিরণ গ্রেপ্তার

জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৫২

শেয়ার

সদরঘাটে জবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: কিরণ গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর পুরান ঢাকার সদরঘাটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় কিরণ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ফজলুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এসি ফজলুল হক জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে কিরণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনও কিছু জানা যায়নি, তদন্ত চলছে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে উঠতে গিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জবি, কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, জবির ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিল লঞ্চে উঠলে কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক কেবিন ভাড়া নিতে বলেন। নাবিল তা প্রত্যাখ্যান করলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন লঞ্চকর্মী তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সহপাঠী ও বড় ভাইয়েরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— নাবিল (ফিন্যান্স, ১৮তম ব্যাচ), শের আলী (আইএমএল, ১৮তম ব্যাচ), ব্রজ গোপাল রায় (সংগীত বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), জিলন (এমসিজে, ১৮তম ব্যাচ), ইমরোজ সিদ্দিক (আইন, ১৯তম ব্যাচ), আনিছ (থিয়েটার, ১৯তম ব্যাচ), টিঙ্কু (ফিলোসফি, ১৮তম ব্যাচ), মাকসুদুল হক (ইসলামিক স্টাডিজ, ১৪তম ব্যাচ), রিহাব (কবি নজরুল কলেজ) এবং মুজাহিদ (সোহরাওয়ার্দী কলেজ)। আহতদের সুমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় সদরঘাটের ইজারাদার ও দক্ষিণাঞ্চল শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়ার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তার ঘনিষ্ঠ কিরণের নেতৃত্বে আজিজুল, রমজান, আনিছ, রফিক, কাদের, রাব্বি ও সাগরসহ কয়েকজন লঞ্চকর্মী হামলায় অংশ নেন। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সুন্দরবন-১২ লঞ্চ ঘেরাও করে ভাঙচুর চালান। এতে ঢাকা–বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হয় এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজাম্মুল হক বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো মেনে নিলে এ ঘটনার সুরাহা সম্ভব।”

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—

১. কিরণকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা।

২. তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা।

৩. সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা।

৪. ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও মানিব্যাগের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

৫. সাধারণ মানুষের হয়রানি ও কুলিদের অতিরিক্ত

টাকা আদায় বন্ধ করা।



banner close
banner close