রমজান শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে এ পণ্য। পাশাপাশি মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। যদিও টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি সবজি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলা ও ডালের দাম
রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। গত সপ্তাহেও পণ্যটির দাম ছিল ১০০ টাকার মধ্যে। একইভাবে ছোলার ডালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।
মালিবাগ এলাকার দোকানি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পাইকারি আড়তদাররাই ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকায় কিনেছেন, সেটি এখন পাইকারি বাজারে ১০২ থেকে ১০৫ টাকা পড়ছে। রমজান আসার আগেই পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
ছোলার দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা জামিল হোসেন। তিনি বলেন, রমজান আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই ছোলার দাম এভাবে বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক। প্রতি বছর রমজানের অজুহাতে আগেভাগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়। এতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ে।
শীতের সবজিতে স্বস্তি, চড়া টমেটো-গাজর
শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে কিছু সবজির দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।
বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকা। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে কেজি ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা। টমেটো ও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। গাজরের দাম কেজিতে ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।
মাছের বাজারে চড়া দাম, ইলিশ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০০ টাকা
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আগের সপ্তাহের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ।
প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
ইলিশের দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
মাংসের দামে পরিবর্তন নেই, কমেছে পেঁয়াজের দাম
মাংসের বাজারে আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা।
এদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আগে এ দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। তবে আদা ও রসুনের দাম এখনো চড়া। প্রতি কেজি রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি, বাড়তি দামে বিক্রি
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। মানভেদে মসুর ডালের দাম ৯০ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি।
অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় ফার্মের মুরগির ডিমের প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা কম।
আরও পড়ুন:







