শনিবার

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩

মিথ্যা ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়ছে আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৭

শেয়ার

মিথ্যা ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়ছে আমদানি
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা বেড়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মিথ্যা ঘোষণা সন্দেহে ৪৬৭টি আমদানি চালান জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এসব ঘটনায় ২৭০টি মামলা করা হয়েছে। এ থেকে রাজস্ব ও জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ৫৮ কোটি ২ লাখ টাকা।

বন্দর সূত্র জানায়, নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে শুল্ক ফাঁকি দিতে অনেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জব্দ করা চালানের সংখ্যা বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

তিন মাসে জব্দ ৪৬৭ চালান, মামলা ২৭০টি

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৩৬১টি চালান জব্দ করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় ১৯৯টি মামলা হয়। তখন রাজস্ব ও জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছিল ৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১৬৭টি চালান জব্দ এবং ২২৮টি মামলা করা হয়েছিল। ওই সময়ে রাজস্ব ও জরিমানা বাবদ আদায় হয় ২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জব্দ করা চালানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৭টিতে। এ সময়ে মামলা হয়েছে ২৭০টি এবং রাজস্ব ও জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ৫৮ কোটি ২ লাখ টাকা।

কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একাই ১৬৮টি চালান জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩৯টি চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে ৫৫টিতে সঠিক ঘোষণা পাওয়া যায়। বাকি ৮৪টি চালানে অনিয়ম শনাক্ত হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র মোহাম্মদ শরীফ আল আমিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি বেড়েছে। এ কারণে মিথ্যা ঘোষণার চালান শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

গত অর্থবছরে আদায় ১১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা

কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এআইআর শাখা মোট ১ হাজার ৪৫১টি চালান জব্দ করে। এর মধ্যে ৮৪৩টি চালানে অনিয়ম পাওয়ায় মামলা করা হয়। ওই অর্থবছরে ৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা রাজস্ব এবং ৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক ও চট্টগ্রাম কাস্টম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. ইসমাইল খান বলেন, মিথ্যা ঘোষণার পেছনে কখনো কখনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকে। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে যেন বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

যেসব কৌশলে দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা ঘোষণা

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ভুল ট্যারিফ ক্ল্যাসিফিকেশন, পণ্যের পরিমাণ বা দাম কম দেখানো এবং কম শুল্কের পণ্যের আড়ালে অন্য পণ্য আনার মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কাস্টমস বেশ কিছু সন্দেহজনক অনিয়ম শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্র্যাপ ঘোষণা দিয়ে যন্ত্রপাতি ও বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি, মডেলিং ক্লে ঘোষণায় প্রসাধনী আনা, অন্য পণ্যের আড়ালে মোবাইল ফোন লুকিয়ে আনা এবং ভুল ঘোষণায় কাপড় আমদানি।

মোহাম্মদ শরীফ আল আমিন বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাস্টমস বিভাগ তাদের নজরদারি এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে। বন্দরে এআইআরের পাশাপাশি শুল্ক গোয়েন্দা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা চালান শনাক্তে কাজ করছে।