বৃহস্পতিবার

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩

আবারও বাড়ছে এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডারে ১৩৯ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪২

শেয়ার

আবারও বাড়ছে এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডারে ১৩৯ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ
ছবি সংগৃহীত

বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। একই সঙ্গে ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এসব সুপারিশ করা হয়। শুনানিতে গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানান গ্রাহক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আগামী সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণার সম্ভাবনা

শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের কথা রয়েছে বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে কমিশন।

বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এলপিজির ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস বর্তমানে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা। কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবে এই দাম ১১৭ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১২৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে নির্ধারণের কথা বলা হয়। এর মধ্যে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি।

মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, যার মধ্যে অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত, বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। কোম্পানিগুলো এই চার্জ ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার প্রস্তাব করেছিল। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব

রিটেইলারের আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজি ৪ টাকা ১৭ পয়সা। কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব ছিল এই চার্জ ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে নির্ধারণ করা। কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা করার সুপারিশ করেছে।

অন্যদিকে, হোম ডেলিভারি চার্জ ছাড়া রিটেইলার চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। কোম্পানিগুলো তা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

রিটেইলার পর্যায়ে সব খরচ মিলিয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবে এই দাম ১৫৮ টাকা ৯১ পয়সা থেকে ১৮৫ টাকা ৯৭ পয়সা করার কথা বলা হয়। কারিগরি কমিটি প্রতি কেজি ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

এই হিসাব অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ১৩৯ টাকা বাড়তে পারে। তবে নতুন দাম ঘোষণার আগে এই সুপারিশ চূড়ান্ত নয়।

গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনার দাবি

গণশুনানিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব। তা না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না।

সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বারবার ব্যবসায়ীদের কথায় দাম বাড়ানো হলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের আস্থা থাকবে না। কেন গ্রাহকেরা ন্যায্য দামে এলপিজি পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা উচিত কমিশনের।

তিনি আরও বলেন, বেশি দামে এলপিজি বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়ে বিইআরসির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় খতিয়ে না দেখে কারিগরি কমিটির দাম বাড়ানোর সুপারিশের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।