শুক্রবার

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৮ কার্তিক, ১৪৩৩

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩১

শেয়ার

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিনিয়োগে জাপান সরকারের ইতিবাচক সায় রয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এই বিনিয়োগের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশটিকে এশিয়ার একটি উদীয়মান বিনিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত করা। পাশাপাশি এশীয় অঞ্চলে বৈশ্বিক প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ বলে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের অর্থ অটোমোবাইল ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ বাণিজ্যিক উদ্যোগে ব্যয় করা হতে পারে। এসব উদ্যোগের মধ্যে সুমিতোমো করপোরেশনসহ বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে।

২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয়ে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেবেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে উদ্যোগ

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করার লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) সই করে বাংলাদেশ। নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার জাপান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে। মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

প্রস্তাবিত পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে।