দেশের খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, রিটেইল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত কার্যক্রম সম্প্রসারণ
নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সব পৌরসভার প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের তাঁদের অধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (পিএসডি-১) আ ন ম মঈনুল কবীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ৩২ লাখ ৬১ হাজার মার্চেন্ট বাংলা কিউআরের আওতায় এসেছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত করার লক্ষ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সঙ্গে বাংলা কিউআর যুক্ত করা হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা সহজ হবে। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।
চিঠিতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর সঙ্গে বাংলা কিউআর সংযুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ে ট্রেড লাইসেন্সের সঙ্গে বাংলা কিউআর সেবা যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, এ উদ্যোগের ফলে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসবে। এতে ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি অংশ নগদনির্ভরতা থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হবে।
আরও পড়ুন:







