এক থেকে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সবজির দাম, চড়া মাছের বাজারও
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বুধবার ও বৃহস্পতিবার যে পটল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, শুক্রবার তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মাছের দামও। তবে মুরগি ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাজার করতে আসা ক্রেতারা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মেরাদিয়া, রামপুরা, খিলগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
মেরাদিয়া বাজারে প্রতি কেজি পটল ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আলু প্রকারভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, করলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, শিম ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা এবং বরবটি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।
মাছের দামও চড়া, অপরিবর্তিত মাংসের বাজার
সবজির পাশাপাশি মাছের দামও বেড়েছে। বাজারে তাজা রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামও চড়া বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩৩০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
দাম বাড়ায় ক্ষোভ ক্রেতাদের
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, শীতকাল আসন্ন। বাজারে শীতের কিছু সবজিও উঠতে শুরু করেছে। তারপরও কোনো পণ্যের দাম কমছে না।
ক্রেতা আশরাফুল আলম বলেন, পটল আগের দিনও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ শুক্রবার তা ১২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
আশরাফুল আলম আরও বলেন, আগে পেঁপে প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে। ৫০ থেকে ৬০ টাকার লাউ এখন ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে দাম কমানোর দাবি জানাবেন কার কাছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আরেক ক্রেতা মানিক মিয়া বলেন, দিন যত যাচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম ততই বাড়ছে। সবজি, মাছ ও মাংসের কোনো কিছুর দামই কম নয়। এক কেজি গরুর মাংস কিনতেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এতে অন্য বাজার করার জন্য পর্যাপ্ত টাকা থাকছে না।
ক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, তাঁদের আর কিছু বলার নেই। কেউ তাঁদের কথা শোনে না। আগে যে পরিমাণ পণ্য কিনতেন, এখন তার অর্ধেক কিনতে হচ্ছে। সবকিছু নীরবে সহ্য করা ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় নেই বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:







