মঙ্গলবার

৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩

৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য চলাচল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৯

শেয়ার

৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য চলাচল
ছবি সংগৃহীত

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে সরাসরি জলপথে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী বাণিজ্যিক চালান পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি বার্জ ঢাকার পানগাঁও অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

শহরটির ঐতিহ্যবাহী নৌঘাট বন্ধ হওয়ার প্রায় ৭০ বছর পর এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগ আবার চালু হলো।

ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও নৌপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বগিবিল থেকে ডিএলবি পাতকাই নামের পণ্যবাহী বার্জটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন। বার্জটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কুশল কুনওয়ার নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা হয়ে পানগাঁও যাবে চালান

আসামের নামরূপে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের উৎপাদিত মিথানল বহনকারী বার্জটি ভারতের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ বা ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ব্যবহার করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ধলেশ্বরী হয়ে বুড়িগঙ্গা তীরের পানগাঁও নৌবন্দরে নোঙর করবে।

ডিব্রুগড় থেকে পানগাঁও পর্যন্ত চালানটিকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিতে হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বহুমুখী যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এ বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে।

দেশভাগের পর বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহাসিক নৌপথ

উনিশ শতকে পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সাল থেকে কলকাতা ও ডিব্রুগড়ের মধ্যে নিয়মিত স্টিমারে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন হতো।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৫০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর নদীর তলদেশের পরিবর্তনের কারণে এ বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। ১৯৫৪ সালে পণ্য বুকিং বন্ধ হওয়ার পর ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিব্রুগড় নৌঘাট বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ সাত দশক পর পণ্য পরিবহনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ নৌপথ আবার সচল হলো।