মঙ্গলবার

৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমেছে ৪০ শতাংশ, কমেছে শিক্ষা-স্বাস্থ্যেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪১

শেয়ার

ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় কমেছে ৪০ শতাংশ, কমেছে শিক্ষা-স্বাস্থ্যেও
ছবি বাংলা এডিশন

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে ব্যয় কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬১টি ব্যাংক এ খাতে ১১৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত, ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা বা ৩৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৩১ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বেশ কিছু ব্যাংক লোকসানে পড়াসহ সার্বিক ব্যাংক খাতে মুনাফা কমে যাওয়ায় সিএসআর ব্যয় সংকুচিত হয়েছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধার না হলে সিএসআর কার্যক্রমে গতি ফিরবে না বলেও মনে করেন তারা। এ জন্য খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিট মুনাফা বাড়ানো এবং সিএসআর ব্যয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সিএসআর ব্যয়ের নীতিমালা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং একই পরিমাণ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে হবে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় করতে হবে ২০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলা ও বিনোদন খাতে ব্যয় করার নির্দেশনা রয়েছে।

শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও জলবায়ু খাতে কমেছে ব্যয়

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে অন্যান্য খাতে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বা মোট ব্যয়ের ২৯ দশমিক ১১ শতাংশ। শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

আগের ছয় মাসের তুলনায় শিক্ষা খাতে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে কমেছে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় কমেছে ৫৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে অন্যান্য খাতে ব্যয় আগের ছয় মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় বেশি

সিএসআর ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে। ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ৩৩টি ব্যাংক মোট ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয়ের ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক ব্যয় করেছে ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে দুটি ব্যাংক ব্যয় করেছে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বা মোটের ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংক ব্যয় করেছে ১১ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ব্যয় ১৮ কোটি টাকা

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শরিয়াহভিত্তিক ১০টি ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এটি পুরো ব্যাংক খাতের সিএসআর ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে এসেছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। বাকি ১৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, এসেছে অন্যান্য উৎস থেকে।

এদিকে ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে ৭৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বা ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ। পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।