রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪১

শেয়ার

এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
ছবি সংগৃহীত

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এতদিন ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি।

এলপিজি সংকট ও মজুত নিয়ে বৈঠক

বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর বড় ধরনের মুনাফা করার চেষ্টা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার দেশের এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এলপিজি মজুতের বিষয়টি তোলা হয়। বিভিন্ন সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। এরপরও বাজারে সংকট কেন এবং বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে কেন, তা জানতে লোটাব নেতাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা জানান, এলপিজির দাম বেশি বাড়ানো হলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম অনেক বেশি।

বৈঠকের পর এ বিষয়ে জানতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপারেটররা রবিবার থেকে এক লাফে বেশি দাম বাড়ানোর পক্ষে। দাম বাড়ানো হলে তাদের আমদানিতে সুবিধা হবে। তাদের চাহিদামতো দাম বিইআরসি বাড়াচ্ছে না বলেও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে লোটাব নেতারা অভিযোগ করেন।

২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাজারে সংকট

জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির আমদানি খরচ কিছুটা বেড়েছে। এ সুযোগে অনেক অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে বলে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলপিজি অপারেটর আগেভাগে তাদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে। আবার কেউ কেউ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে এলপিজিবাহী জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে।