রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০২

শেয়ার

নতুন বেতনকাঠামোয় পে ফিক্সেশন শুরু সোমবার
ছবি সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (৫ অক্টোবর)। আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে অনলাইনে এ কাজ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে শুধু কয়েকটি তথ্য অনলাইনে পূরণ করলেই কাজ শেষ হবে না। আগের বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসহ চাকরির বিভিন্ন তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

পে ফিক্সেশনে কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নতুন মূল বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বকেয়া বা এরিয়ার পাওনার হিসাবেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

যেসব তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখতে হবে

আইবাস প্লাস প্লাসে পে ফিক্সেশনের আগে চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে থাকা মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে।

এ ছাড়া আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্যও দিতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।

ভুল তথ্যে বেতন নির্ধারণে জটিলতা

পে ফিক্সেশনের সময় কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে বেতন নির্ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্যে ভুল থাকলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বাদ পড়লেও নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে ফিক্সেশন শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে চাকরির নথি মিলিয়ে দেখবে। তথ্য ও নথির মধ্যে অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধন করতে হতে পারে। তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।

অনলাইনে আবেদন শেষে হবে যাচাই

অনলাইনে তথ্য পূরণ করে আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় চাকরির নথির সঙ্গে দেওয়া তথ্য যাচাই করবে। তথ্য সঠিক থাকলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

অনুমোদনের পর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। এরপর চাকরির নথিতে ওই যাচাই নম্বর ও নতুন নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করা হবে।

অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলতে পারে বকেয়া

পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে।

তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।

এ কারণে পে ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি চাকরির আগের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া প্রয়োজন।