বৃহস্পতিবার

১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৭

শেয়ার

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড
প্রতীকী ছবি

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বাণিজ্য ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে দূতাবাস।

বাণিজ্য ও রপ্তানি

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের তাজা আম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের জন্য বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও চলছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাঠামো উন্নয়নে দুই দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানায় দূতাবাস।

বিনিয়োগ ও শিল্পাঞ্চল

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের পর চীনের বিনিয়োগ করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল চালু হয়েছে। অঞ্চলটি মোট ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আগ্রহ আকর্ষণ করেছে। সেখানে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ শক্তি শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা

অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে পদ্মা সেতুর কথা উল্লেখ করেছে দূতাবাস। বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা কোম্পানির নির্মিত এ সেতু ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে। সেতুটি বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক ২৩ শতাংশীয় পয়েন্ট অবদান রাখবে এবং দারিদ্র্যের হার শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনা কোম্পানিগুলো কয়লাভিত্তিক, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

বর্তমানে চীন-সহায়তাপুষ্ট কয়েকটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৬-এর সংস্কারকাজ রয়েছে। এ ছাড়া একটি সাধারণ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের আবাসিক হল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৯ এবং একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা

বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন বাংলাদেশকে ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ, বার্ন চিকিৎসার ভেন্টিলেটর, রোবোটিক পুনর্বাসন সরঞ্জাম এবং বন্যা-ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে।

চীন ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট প্রকল্পেও সহায়তা দিয়েছে বলে জানায় দূতাবাস।

দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রয়োজনের সময়ে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ সুরক্ষায় দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।