বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাধারণ বীমায় অনিষ্পন্ন দাবির ৮০ শতাংশ পাঁচ কোম্পানিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:২৭

শেয়ার

সাধারণ বীমায় অনিষ্পন্ন দাবির ৮০ শতাংশ পাঁচ কোম্পানিতে
ছবি সংগৃহীত

দেশের সাধারণ বীমা খাতে গ্রাহকদের অনিষ্পন্ন বা বকেয়া দাবির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানিতে জুন শেষে মোট ৩ হাজার ৪৪৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন ছিল। এর প্রায় ৮০ শতাংশ বা ২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা আটকে আছে মাত্র পাঁচটি কোম্পানিতে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে কোম্পানিগুলোর পাঠানো চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) দাবি নিষ্পত্তির তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৬টি কোম্পানি মোট ৫১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মোট দাবির মাত্র ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ নিষ্পত্তি হয়েছে।

এসবিসিতে অনিষ্পন্ন দাবি ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকা

শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিষ্পন্ন দাবি রয়েছে এসবিসিতে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট দাবি ছিল ২ হাজার ২৮০ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে জুন শেষে অনিষ্পন্ন দাবি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিষ্পন্ন দাবি রয়েছে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট দাবি ছিল ৩২৮ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩২ কোটি ৯৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে ২৯৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ১০ দশমিক ০২ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রগতি ইনস্যুরেন্সে ১৫৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্সে ১৪০ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং পিপলস ইনস্যুরেন্সে ৮৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এই চার বেসরকারি কোম্পানিতে অনিষ্পন্ন দাবির মোট পরিমাণ ৬০৩ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

দাবি নিষ্পত্তির হার ৫০ শতাংশের নিচে অধিকাংশ কোম্পানির

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানির অধিকাংশেরই দ্বিতীয় প্রান্তিকে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫০ শতাংশের নিচে ছিল। কয়েকটি কোম্পানিতে এই হার ১০ শতাংশেরও কম।

দাবি নিষ্পত্তির হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নর্দার্ন ইসলামী ইনস্যুরেন্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট দাবি ছিল ৮১ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৭৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে অনিষ্পন্ন রয়েছে ৮০ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ।

অগ্রণী ইনস্যুরেন্সের ৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার দাবির বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। নিষ্পত্তির হার ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এ ছাড়া পিপলস ইনস্যুরেন্সের দাবি নিষ্পত্তির হার ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্সের ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ, মেঘনা ইনস্যুরেন্সের ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ইসলামী ইনস্যুরেন্স বাংলাদেশের ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং দেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্সের ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দাবি পরিশোধে সংস্কারের উদ্যোগ

বীমা খাতের এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকের পাওনা মেটাতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করতে হবে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বছরের পর বছর জমে থাকা আস্থার সংকট, তথ্য গোপনের অপচেষ্টা এবং দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া দাবির কারণে দেশের বীমা খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনিয়ম দূর করে বীমা খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। বকেয়া দাবি পরিশোধকে প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। গ্যারেজে বা আড়ালে সার্ভার লুকিয়ে রাখা কিংবা ভুয়া তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানকে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।