মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব: অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন আটকে আছে গেজেট?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০২

শেয়ার

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব: অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন আটকে আছে গেজেট?
ছবি সংগৃহীত

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ ও স্বস্তি তৈরি হলেও গেজেট প্রকাশে বিলম্বে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক আমলা ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এ নিয়ে হতাশার কারণ নেই। তাদের মতে, নতুন বেতন কাঠামোর মতো বড় ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক, আইনি ও আর্থিক ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়।

প্রাথমিকভাবে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেলেও অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি। এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো ফাইল আটকে থাকার বিষয় নয়। সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের ত্রুটিহীন খসড়া প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

বিশেষ করে জনপ্রশাসনের বাইরে সশস্ত্র বাহিনী, অর্থাৎ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা ও হিসাব নিখুঁতভাবে প্রণয়ন করাই এ প্রক্রিয়ার মূল কাজ।

প্রজ্ঞাপন জারিতে রয়েছে প্রশাসনিক ও আইনি ধাপ

মন্ত্রিসভায় কোনো নীতিগত অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত একটি দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় মূলত গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে কার ক্ষেত্রে কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এবং বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ আদেশের খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়কেই তৈরি করতে হয়।

প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুতের পর তা ভেটিং বা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে প্রস্তাবিত কাঠামোর সঙ্গে সংবিধান বা বিদ্যমান চাকরি আইনের কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় বা আইনি অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত খসড়া মুদ্রণের জন্য সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

২০১৫ সালের পে-স্কেলেও সময় লেগেছিল

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ফলে এবার দুই সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারসহ অভিজ্ঞ আমলারা।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা কাজ শুরু করবেন। যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।