মঙ্গলবার

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

ব্যাংকঋণে নির্ভরতায় নতুন অর্থবছর শুরু সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৪

শেয়ার

ব্যাংকঋণে নির্ভরতায় নতুন অর্থবছর শুরু সরকারের
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সরকারের নির্ভরতা বেড়েছে। এ সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ না নিয়ে আগের ঋণের ১ হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রথম মাসেই ব্যাংকঋণ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে ৬ হাজার ৯৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ফলে আগের অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৩ হাজার ৯৯০ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরবর্তী ১৬ দিনে আরও ২ হাজার ৯৬৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

৩১ জুলাই শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৪৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা। এক বছর আগে এ স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।

বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিমাণ বাজেটের মোট ঘাটতির প্রায় ৪৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের আয় কম থাকে। তবে ব্যয় চলমান থাকায় এ সময় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তা মেটানো হয়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে ব্যাংকঋণের চাহিদা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিট ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার

জুলাইয়ের পুরো মাসের হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মক অবস্থানে গেছে। নতুন করে নিট ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার ১ হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে।

তবে জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৫২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৭ হাজার ৪৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

৩১ জুলাই শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৫০৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক বছর আগে এ স্থিতি ছিল ৯৯ হাজার ৪৮৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ কমলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। জুলাইয়ে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৯৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এর মধ্যে প্রথম ১৫ দিনে নেওয়া হয় ৩ হাজার ৯৩৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ১৬ থেকে ৩১ জুলাই সময়ে নেওয়া হয়েছে আরও ৪ হাজার ৫৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার নিট ৪ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল।

৩১ জুলাই শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এ স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকঋণে রেকর্ড

রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি, সরকারি ব্যয়ের চাপ এবং বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের নির্ভরতা ছিল নজিরবিহীন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের প্রকৃত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এর আগে কোনো অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ এত বেশি ছিল না।

মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। বিদায়ী অর্থবছরে নেওয়া নিট ঋণ মূল ও সংশোধিত বাজেটের উভয় লক্ষ্যমাত্রাকেই ছাড়িয়ে গেছে।